আজাদী

আজাদী

বিস্তৃত অর্থে, আজাদী বা স্বাধীনতা হলো একজন ব্যক্তির যেমন ইচ্ছা তেমন করার ক্ষমতা।[১] আধুনিক রাজনীতিতে, স্বাধীনতা হলো সমাজের অভ্যন্তরে কারো জীবনযাপন, আচরণ বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর কর্তৃত্বের দ্বারা চাপানো নিপীড়ন মূলক বিধিনিষেধ থেকে সত্ত্বার মুক্তি বা আজাদী।[২][৩][৪] দর্শনশাস্ত্রে, স্বাধীনতা নির্ধারণবাদের বিপরীতে স্বাধীন ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত।[৫] ধর্মতত্ত্ব অনুসারে স্বাধীনতা হলো “পাপ, আধ্যাত্মিক বশ্যতা, [বা] পার্থিব বন্ধন” এর প্রভাব থেকে মুক্তি।[৬]

কখনও কখনও “স্বাধীনতা” ও “মুক্তি” শব্দদ্বয় আলাদা অর্থে ব্যবহার করা হয়। মুক্তি বলতে, ব্যক্তির ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুসারে তার কাজ করার ক্ষমতাকে বোঝানো হয়। “স্বাধীনতা” শব্দটি ব্যবহার করে বোঝানো হয়, আজাদীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকারকে বিবেচনা করে স্বেচ্ছাচারিতাকে সংযত রাখা। এই অর্থে, স্বাধীনতার চর্চা সামর্থ্যের অধীন এবং অন্যের অধিকার দ্বারা সীমাবদ্ধ।[৭] সুতরাং, আজাদী, আইনের শাসনের অধীনে অন্য কাউকে তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করে স্বাধীনতার দায়িত্বশীল ব্যবহারকে নির্দেশ করে। স্বাধীনতা আরও বিস্তৃত এই অর্থে যে, এটি সংযমের অভাব বা নিজের কামনা পূরণের সীমাহীন সামর্থ্যকে প্রকাশ করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির হত্যার মুক্ততা থাকতে পারে, তবে হত্যার স্বাধীনতা থাকতে পারে না, কারণ এক্ষেত্রে তা অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না হবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। এক ধরণের শাস্তি হিসেবে ব্যক্তির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হতে পারে। অনেক দেশে অপরাধমূলক কাজে দোষী সাব্যস্ত হলে মানুষ তাদের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

“জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখের সাধনা”[৮] বা “স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব”-এর[৯] মতো স্লোগানগুলিতে “স্বাধীনতা” শব্দটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।

https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80